মাইকিং করে জবর দখলের হুমকি। পীরের দরবারে পুলিশ মোতায়েন
মাইকিং করে জবর দখলের হুমকি।। পীরের দরবারে পুলিশ মোতায়েন
জামালপুরের বকশীগঞ্জের আজমীগঞ্জ দরবার শরীফে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে দখল ও জবর দখলের আশঙ্কায় দরবার শরীফের নিরাপত্তার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল থেকে অর্ধশত পুলিশ দরবার শরীফ পাহারা দিচ্ছে। একই কারণে শত শত ভক্তরাও দরবারে অবস্থান নিয়েছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোন অঘটন না ঘটলেও উভয় পক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাইকিং করে দরবার দখলের ঘোষনা দিয়ে মাদকাসক্ত সাইয়ুম খাজা আত্ম গোপনে রয়েছেন। তার মাদক সেবনের অনেক ছবি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
ভক্তদের দাবি খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.) রুহানি দরবার শরীফ আজমিরগঞ্জ দরবার শরীফ। প্রায় ১০৫ বছর পূর্বে এই দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর খাজা বশির (রহ.)এই দরবার শরীফের গদি নিশিন হন। খাজা বশির মারা যাওয়ার পর শহীদ খাজা দরবার শরীফের গদিনিশিন হন। তিনি মারা যাওয়ার পর আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফের দায়িত্ব নেন খাজা নাসিরুল্লাহ-শাহীন খাজা।

তিন বছর আগে মারা যান খাজা নাসিরুল্লাহ। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছোট ভাই তৌহিদ খাজা আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফের গদিনিশিন হন । তৌহিদ খাজার দায়িত্ব নেওয়ার পর তার বড় ভাইয়ের ২২/২৩ বছর বয়সী ছেলে খাজা সাইয়ুম নিজেকে আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফের গদিনিশিন পীর দাবি করেন।
এর পর থেকেই দরবার শরীফের আধিপত্য নিয়ে চাচা ও ভাতিজার মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। প্রায় শতভাগ ভক্ত খাজা তৌহিদুল্লাহকেই গদিনিশিন হিসেবে মেনে নেন। অপরদিকে কয়েকজন ভক্ত গদিনিশিন হিসেবে সায়েম খাজাকেই প্রধান্য দিয়ে আসছিলেন। তবে দরবার শরীফের শতভাগ আধিপত্য তৌহিদ খাজার নিয়ন্ত্রণে।
এই অবস্থায় দরবার শরীফের নিয়ন্ত্রণ নিতে এলাকায় মাইকিং করে দরবার শরীফ দখলের ঘোষণা দেন সায়েম খাজা ও তার ভক্তরা। এ ঘোষণার পর থেকেই আজমিরগঞ্জ দরবার শরীফে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করে গদিনিশিন পীর তৌহিদ খাজা ও তার ভক্তরা। পীর তৌহিদ খাজা বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন এবং পুলিশের সার্বিক সহায়তা চান। ফলে ১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল থেকে আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অর্ধশত পুলিশ সশস্ত্র অবস্থায় আজমিরগঞ্জ দরবার শরীফে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু পুলিশ না। ঘটনার খবর পেয়ে শত শত ভক্ত পুলিশকে সহায়তা করার জন্য দরবার শরীফে ছুটে এসেছে। তারা দরবারের আইন শৃংখলা রক্ষায় পুলিশকে সহায়তা করছে।
এ ব্যাপারে আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফের পীর তৌহিদ উল্লাহ খাজা জানান, আমি ও আমার ভক্তরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমার ভক্তরা কোন ঝামেলা পছন্দ করে না সব সময় আমার ভক্তরা আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। সামনেও তাই করবে। কিন্তু সায়েম খাজা ও তার কয়েকজন ভক্ত দরবার শরীফের আইন শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে । দরবার শরীফের সম্মান রক্ষায় আমি আজীবন লড়াই করে যাব। কারণ একজন মাদাকাসক্ত ব্যাক্তির কাছে দরবার শরীফের দায়িত্ব দিলে তিনি তার পবিত্রতা রক্ষা করতে পারবেনা। ভক্তরাও তা মেনে নিবেন না। কারণ তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন। তাকে যারা সমথন করেন তারাও মাদক সেবনের সাথে জডিত।
এব্যাপারে সায়েম খাজার সাথে যোগাযোগ ও তার মতামত জানার জন্য চেষ্টা করা হয়। তিনি আত্ম গোপনে থাকায় তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইলে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, দরবার শরীফ পরিচালনা কর্ত্পক্ষ পুলিশের সহায়তা চেয়েছে। উধ্বতম কত্রপক্ষের নির্দেশে পুলিশ সেখানে ডিউটি করছে। উধ্বতম কত্রপক্ষের নির্দেশে পেলেই পুলিশ প্রত্যাহার করা হবে।







আপনার মতামত লিখুন