খুঁজুন
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ, ১৪৩২

নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে হাসিনার মতই পালাতে হলো যে কারণে

এফ শাহজাহান
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:২১ অপরাহ্ণ
নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে হাসিনার মতই পালাতে হলো যে কারণে

মাত্র এক বছর আগেই চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের স্রোতে ৫ই আগস্ট যেভাবে ক্ষমতা ছেড়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়েছেন, ঠিক একইভাবে আজ ৯ সেপ্টেম্বর একই সময়ে হেলিকপ্টারে চড়েই পালালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলি।

পলাতক হাসিনার মতো ওলিও শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিবেন কিনা, কিংবা ভারত তাকে শেখ হাসিনার মতো পরম আদরে আশ্রয় দিবে কিনা; সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তবে হাসিনা তার দলের মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের মহাবিপদে ফেলে শুধু নিজের বোনকে নিয়ে একাই পালিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলি ৭জন মন্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেণ

দুইটা আলাদা দেশ। কিন্তু দৃশ্যপট একই। বিপ্লবের স্টাইলও এক। পরিণতিও এক। মনে হচ্ছে একই পরিচালকের পরিচালনায় একই স্ক্রিপ্টে নির্মিত এক টিকিটে দেখার মতো দুটি সিনেমা।

আজ ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ব্যাপক বিক্ষোভ–সহিংসতার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং ৯জন মন্ত্রীকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়েছেন।

নেপালে গণবিক্ষোভের সূত্রপাত হয় সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘদিনের দুর্নীতি–বিরোধী ক্ষোভ থেকে। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল তরুণ–প্রজন্ম, যা গণমাধ্যমে “জেন-জি প্রোটেস্ট’’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

বিক্ষোভে গতকাল সোমবার ১৯ জন এবং আজ অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন।পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত ওলি পদত্যাগ করে বিশেষ হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়ে গেছেন।

এরপরও উপপ্রধানমন্ত্রীকে গণধোলাই এবং সংসদ ভবন,সুপ্রিমকোর্ট পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে সরকার–দলীয় নেতাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। দেশটির সেনাবাহিনী এখন ক্ষমতা নিয়েছে।

নেপালের গণবিপ্লকের কারণ এবং ফলাফল নিয়ে এই প্রবন্ধে আরো যে সব বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে,তা হলো-
(ক) নেপালে কেন বিক্ষোভ এত দ্রুত ও ধর্ষণাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ল ?
(খ) ওলির পদত্যাগের পেছনের তাত্ক্ষণিক ও কাঠামোগত কারণগুলো কী, এবং (গ) সংবিধানিক প্রক্রিয়া ও দলীয় অঙ্কের বাস্তবতায় নেপালের সামনে কী কী ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা
সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর রেজিস্ট্রেশন ও রেগুলেশন আরোপের উদ্যোগ নেয়; এর পরপরই কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হয়ে যায়। নাগরিক অধিকার অঙ্গন ও তরুণদের বড় অংশ এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখে পথে নামে।

সহিংসতার বিস্তার
গত ৮ সেপ্টেম্বর আন্দোলন চরমে পৌঁছায়; পুলিশ–বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়, শতাধিক আহত—এর অধিকাংশই কাঠমান্ডুতে। পরদিনও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে, কারফিউ সত্ত্বেও জনতা রাস্তায় নামে, সরকারি ভবন, দলীয় নেতাদের বাড়িতে হামলা–অগ্নিসংযোগ হয়।

রাজনৈতিক সংকট ও পদত্যাগ
চাপে পড়ে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও জনরোষ থামেনি। ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন।

বিক্ষোভের কারণ
প্রথমত: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ–নিষেধাজ্ঞা: স্বাধীনতার প্রশ্ন
সরকারের যুক্তি ছিল ভুয়া তথ্য রোধ, অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং “দায়িত্বশীল সোশ্যাল মিডিয়া” নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারসহ একাধিক প্ল্যাটফর্ম ব্লক হওয়ায় এটি দ্রুতই সেন্সরশিপ বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল স্পেসকে তাদের রাজনৈতিক-সামাজিক অংশগ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে দেখে; ফলে এ নিষেধাজ্ঞা তাদের ক্ষমতায়ন উপকরণে সরাসরি আঘাত হিসেবে প্রতিভাত হয়।

দ্বিতীয়ত: দুর্নীতিবিরোধী ক্ষোভের সঞ্চয়
বছরের পর বছর ধরে নেপালে দুর্নীতি, পক্ষপাতদুষ্টতা, অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনঅসন্তোষ বেড়েছে। সরকারি নিয়োগ, অবকাঠামো ব্যয়, ক্রয়–প্রক্রিয়া ইত্যাদি খাতে জবাবদিহিতার অভাব ও ক্ষমতাসীন–রাজনীতিকদের প্রভাবের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। সোশ্যাল–মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা সেই ক্ষোভের উপর যেন ট্রিগার হিসেবে কাজ করেছে।“ডিজিটাল অধিকার এবং দুর্নীতি বিরোধিতা” এক হয়ে বড় জনসমর্থন পেয়েছে।

তৃতীয়ত: বলপ্রয়োগ ও কারফিউ
কারফিউ জারি, রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার, গুলিবর্ষণ-এই কড়া প্রতিক্রিয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে গেলে বিক্ষোভকারীদের যুক্তি আরও জোরদার হয় এবং মধ্যপন্থী–অনাগ্রহীদের একাংশও আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে।

ইতিহাস বলে, নেপালের মতো দেশগুলোতে জনতার আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ প্রায়ই উল্টো ফল আনে। জনমতের বিক্ষোভ প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

চতুর্থত: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দীর্ঘ ঐতিহ্য
২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের পর থেকে নেপাল ধারাবাহিক জোট রাজনীতি, দোলাচল ও ঘনঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে।

২০২২ সালের নির্বাচনের পরের টালমাটাল জোটের হিসাব-নিকাশ , ২০২৪ সালে দহল সরকারের পতন, এবং ওলির নেতৃত্বে নতুন জোট,সবই দেখিয়েছে যে দলীয় আস্থা ও নীতিগত ধারাবাহিকতা দুর্বল। তরুণরা রাজনীতির এই “সুইচিং গেম”কে “স্ট্যাটাসকো এলিট প্যাক্ট” হিসেবে দেখছে।

বিপ্লবের রাজনৈতিক ক্যালকুলাস
১. সংকট ব্যবস্থাপনায় ভুল বার্তা
সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারের বারবার ব্যাখ্যা বদল, আংশিক ব্লক উত্তোলন, কিন্তু একই সাথে কড়া দমনে নীতিগত স্পষ্টতা অনুপস্থিত ছিল। ফলত: সরকার “নাগরিক স্বাধীনতা বনাম রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ” এই ফ্রেমে জনমত হারিয়ে ফেলেছে।

২. জেন–জেডের সংগঠনক্ষমতা ও মোবিলাইজেশন
তরুণরা ক্যাম্পাস, টিকটক, শর্ট–ভিডিও এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সবকিছু মিলিয়ে রাস্তায় নেমেছে। নেপালের আরবানাইজড ভ্যালি পলিটিক্সে এই দ্রুত মোবিলাইজেশন সরকারকে অবাক করেছে। সোশ্যাল–মিডিয়া ব্লক উল্টো স্ট্রাইস্যান্ড এফেক্ট তৈরি করেছে। মানুষ আরও যতো বেশি তথ্য খুঁজেছে, বিক্ষোভও ততই বেড়েছে।

৩. প্রতিযোগী দলগুলোর পজিশনিং
অভিযোগ, বিরোধীদলসহ বহু রাজনীতিক এই তরুণ–ক্ষোভকে নিজেদের কৌশলগত সুবিধায় ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। কমবেশি সব রাজনৈতিক শক্তিই দুর্নীতিবিরোধী ব্যানারকে সমর্থন জানিয়েছে । এতে বিক্ষোভে ক্রস কাট্টিং অংশগ্রহণ দেখা যায়। কোনো একক দলের একচেটিয়া প্রভাব নেই।

পদত্যাগের পর কীভাবে সরকার গঠিত হবে?
নেপালের ২০১৫ সালের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদ শূন্য হলে ৫৫ দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ–প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। প্রেসিডেন্ট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যে নেতা সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে পারে, তাকে আমন্ত্রণ করেন। যদি জোটগঠন ব্যর্থ হয়, তাহলে ধাপে ধাপে ৭৬(২), ৭৬(৩) ইত্যাদি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিকল্প পথ সক্রিয় হয়; শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলে হাউস ভেঙে নির্বাচনেও যেতে হতে পারে।

নেপালের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
যত দ্রুত নতুন জোট সরকার গঠন করবে তত দ্রুত সহিংসতা কেমে আসবে। এজন্য প্রেসিডেন্ট একই সংসদ থেকেই এমন একজন নেতাকে মনোনীত করবেন, যিনি ১৩৮–এর বেশি এমপি সমর্থন দেখাতে পারেন। মাওবাদী এবং অন্যান্যদের মধ্যে যেকোনো নতুন সমঝোতা হতে পারে।

২০২৪ সালে দহল সরকারের পতনের পর ওলির উত্থান দেখিয়েছে যে সেখানে বড় দুই দলের সমঝোতা হলে দ্রুত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যায়।

চ্যালেঞ্জ: জনরোষ বহাল। “এলিট–ডিল”–কে তরুণরা গ্রহণ নাও করতে পারে। সোশ্যাল–মিডিয়া নীতির স্বচ্ছ রোডম্যাপ, স্বাধীন তদন্ত এবং পুলিশি জবাবদিহিতা ছাড়া সরকার জন্মলগ্নেই বৈধতা সংকটে পড়বে।

ন্যাশনাল ইউনিটি সরকার
প্রধান দলগুলো সময়সীমাবদ্ধ ন্যূনতম কর্মসূচিতে একমত হবে—যেমন:
(ক) সহিংসতার স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন,
(খ) ডিজিটাল রাইটস–ফ্রেমওয়ার্ক,
(গ) অ্যান্টি–করাপশন রিফর্ম,
(ঘ) নির্বাচনী সংস্কার/সময়সীমা নির্ধারণ।

আগাম নির্বাচন
৫৫ দিনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ না মিললে, বা ধারাবাহিক ভোটাভুটিতে ব্যর্থতা এলে—সংবিধানিক রূপরেখা অনুযায়ী হাউস ভেঙে আগাম নির্বাচন।
সুবিধা: নতুন ম্যান্ডেট; তরুণ ভোটারদের শক্তি প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা।
ঝুঁকি: স্বল্পমেয়াদে নীতিগত–আর্থিক অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগ ও পর্যটনে ধাক্কা; নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি; বিক্ষোভ–পরবর্তী পোলারাইজেশন বেড়ে গেলে ফলাফল খুব খণ্ডিত হতে পারে। ফলে আবারও জোট–ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা থাকবে।

কেয়ারটেকার ধরনের অন্তর্বর্তী সরকার
দলগুলো একটি “নন–পার্টিজান” বা টেকনিক্যাল কেবিনেট–এ সমঝোতা করে সীমিত সময়ের জন্য কেবল ক্রাইসিস–ম্যানেজমেন্ট, অর্থনীতি স্বাভাবিকীকরণ, এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি। এতে করে “নো–পলিটিক্স–আনটিল–ইলেকশন” বার্তায় উত্তেজনা কমতে পারে। তবে এরফলে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন; রাজনৈতিক দলগুলো নীতিগত সংস্কারে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ওলির পদত্যাগ নেপালের জন্য কেবল একটি নেতৃত্ব–পরিবর্তন নয়; এটি ডিজিটাল অধিকার বনাম রাষ্ট্র–নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতিবিরোধী জনআন্দোলন বনাম দলীয় এলিট পলিটিক্স এই দুই অক্ষের সংঘাতের ফল।

স্বল্পমেয়াদে সংবিধানিক সময়সীমা মেনে জোট ব্যবস্থা বা অন্তর্বর্তী বিন্যাসে দুটোর যেকোনো একটির মাধ্যমে ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ হবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে সোশ্যাল মিডিয়া, ডিজিটাল রাইটসের নীতিগত স্বচ্ছতা, দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর রিফর্ম,পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহিতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে নেপালে শীঘ্রই শান্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা যায়।

কানাডার টরেন্টোতে ৪ থেকে ৭সেপ্টেম্বর ৪দিন ব্যাপী

বাংলাদেশ থেকে শুভারম্ভন হলো ‘ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তি উৎসব আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ থেকে শুভারম্ভন হলো ‘ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তি উৎসব আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আমেরিকা এবং উত্তর আমেরিকার বাঙ্গালীদের প্রথম এবং জনপ্রিয় সংগঠন ফোবানা ফাউন্ডেশন, সংগঠনটির জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের স্বনামধন্য সব শিল্পী বৃন্দদের নিয়ে প্রতিবছরই জমকালো সব আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে কানাডার টরেন্টোতে ২০২৬ এর ৪ই সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই সেপ্টেম্বর ৪দিন ব্যাপী বাংলাদেশী শিল্পী, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের নিয়ে সম্মাননা প্রদান সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানটি উদযাপনের প্রাথমিক আলোচনার জন্য ফোবানা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি – এর সভাপতি আবু জুবায়ের দারা এবং এটিএন এমসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুর রহমান মুনিম ঢাকায় বনানীর ফিশমার্ট রেস্টুরেন্টে শিল্পী কলাকৌশলী এবং উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করেন।

এই আলোচনায সভায় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব, এটিএন বাংলার ট্রান্সমিশন উপদেষ্টা তাসিক আহমেদ, বাংলাদেশের সোসাইটি এসসি- এর সহ-সভাপতি আহমেদুর রহমান,এটিএন এডুকেশন এর নির্বাহী পরিচালক রোকসানা আখতার রিনি, সঙ্গীত শিল্পী আখি আলমগীর, ইমরান, সালমা, এস আই সুমন, তামান্না হক, লগ্না, ডলি,চলচ্চিত্র অভিনেতা সুমন মাহমুদ, চলচ্চিত্র শিশু শিল্পী টুনটুনি, নৃত্যশিল্পী সোহেল, মডেল এবং উপস্থাপিকা সালসাবিল, কোরিওগ্রাফার লুনা, মডেল পিউ, চলচ্চিত্র প্রযোজক মাহবুবা শাহরীন, আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা সম্পর্কিত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন অতিথি গ্রুপের পরিচালক নুরুন্নবী চৌধুরী, উদ্যোক্ত ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জাহাঙ্গীর আলম, নারী উদ্যোক্তা নাজমুন নাহার চৌধুরী, তানজিনা মিতু এবং ইসরাত ফারিবা।

ফোবানা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি – এর সভাপতি আবু জুবায়ের দারা বলেন- ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবারের আয়োজন অতীতের সমগ্র আয়োজন হতে অন্যরকম এবং জাঁকজমক পূর্ণ হবে। যেখানে তিনি শিল্পী কলাকৌশলী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম এবং পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

এটিএন এমসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুর রহমান মুনিম বলেন – এবারের আয়োজন খুব চ্যালেঞ্জিং, অতীতের মতো এবারও সকল চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে একটি সফল অনুষ্ঠান উপহার দিতে পারবো ইনশাল্লাহ।

চলচ্চিত্র সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব বলেন – প্রবাসী বাঙ্গালীদের এই বৃহৎ মিলনমেলায় উপস্থিত থাকবো এটি অনেক আনন্দের। ৪০ তম ফোবানো উৎসবের ইভেন্ট পার্টনার এটিএন এমসিএল এবং মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা।

শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থারত শিক্ষকদের ওপর অ্যাকশনে গেছে পুলিশ। রোববার সকাল থেকে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থানের এক পর্যায়ে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তাদেরকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। শিক্ষকদেরকে ধাওয়া দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিয়ে যায়।

এসময় জাতীয় প্রেসক্লাব ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষকদের মাঝে। তারা বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে পড়েন। প্রায় তিন ঘন্টা পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, দেড় হাজার টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে নেমেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।

সকাল ১০ টার পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান শুরু করেন শিক্ষকরা। সারা দেশ থেকে আসা ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষকের অবস্থানের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব, সচিবালয় ও মেট্রোরেলের প্রবেশ পথে সাধারণ মানুষের চলাচলও চরমভাবে বিঘ্ন হয়।

প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জোটের মহাসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানিয়েছেন। দাবি আদায়ে অবস্থান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের শিক্ষক সমাবেশে লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিল। ওইদিন শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসিকের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস পার হলেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হন।

সূত্রমতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে নতুন করে বাড়িভাড়া ভাতা ও মেডিক্যাল ভাতার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাবনা গত ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ নির্ধারণে নতুন প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ এবং চিকিৎসা ভাতা এক হাজার টাকার প্রস্তাব করেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

শোবিজ

এবার কোরিয়ান জনপ্রিয় ডল ‘লা বু বু’ এর মডেল হলেন “এডলফ খান”

জুবায়ের সাকিব | স্টাফ রিপোর্টার (বিনোদন ডেস্ক)
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
এবার কোরিয়ান জনপ্রিয় ডল ‘লা বু বু’ এর মডেল হলেন “এডলফ খান”

বাংলাদেশের জনপ্রিয় তারকা এডলফ খান আবারো বিশ্ব অঙ্গনে তার ভক্তদের চমকে দিলেন এক অনন্য অর্জনের মাধ্যমে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত কোরিয়ান পুতুল ‘লা বু বু ডল (LA BU BU)’-এর মডেল হিসেবে এবার তাকে দেখা যাবে; যা কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

কোরিয়া, ইউরোপ, এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘লা বু বু ডল’ এখন টিনএজার এবং কেপপ (KPOP) অনুরাগীদের কাছে এক অদ্ভুত ক্রেজ। বিশেষ করে BTS (방탄소년단) ভক্তদের কাছে এটি এখন এক ফ্যাশন আইকন ও কালেক্টরস ড্রিম। এতদিন পর্যন্ত এই প্রজেক্টে বলিউড ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তারকারা যুক্ত ছিলেন, আর এবার সেই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের এডলফ খান।

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘Ghorar dim-toy BD’-এর আয়োজনে এই আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। পুরো শুটিং টিমে ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের পেশাদার ফটোগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট, ও কনসেপ্ট ডিজাইনাররা। এডলফ খানের প্রতিটি লুকে তাকে সম্পূর্ণ কোরিয়ান চরিত্রে রূপান্তরিত করা হয়, যা তাকে আরো অনন্য করে তুলেছে।

এডলফ খান জানান,

“এই প্রজেক্টে কাজ করা আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। পুরো টিমের পেশাদারিত্ব এবং যত্ন আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আমার ভক্তরা ‘লা বু বু ডল’-এর এই নতুন কোরিয়ান-অনুপ্রাণিত চরিত্রটিকে ভালোবাসবেন।”

তার কোরিয়ান লুক এবং এক্সপ্রেশনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, “এডলফ খান হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রথম কোরিয়ান-লুক মডেল যিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ফিগার রূপে আত্মপ্রকাশ করছেন।”

আগামীকাল সন্ধ্যায় প্রকাশ পাচ্ছে ‘লা বু বু ডল’-এর ফার্স্ট লুক, যা ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা ও আগ্রহ।

এই প্রজেক্টের মাধ্যমে এডলফ খান শুধু নিজের জনপ্রিয়তাকেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাননি, বরং প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের শিল্পীরাও আজ গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং, মডেলিং ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

বাংলাদেশ থেকে শুভারম্ভন হলো 'ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তি উৎসব আয়োজন শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবার কোরিয়ান জনপ্রিয় ডল ‘লা বু বু’ এর মডেল হলেন "এডলফ খান" রাসূল (সা.)-এর আদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নারায়ণগঞ্জ ‎জেলা প্রশাসকের স্কুল পরিদর্শন: শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ সোনারগাঁয়ে ওস্তাদের শরীর মাসাজ না করায় রক্তাক্ত  মাদরাসা ছাত্র, থানায় অভিযোগ শেরপুর সরকারি কলেজে নবীনবরণ ও উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪২ জন নির্বাচিত সিরাজগঞ্জে পিতাকে হত্যার ঘটনায় পুত্রের মৃত্যুদণ্ড বেনাপোলে ২৭ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ