খুঁজুন
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ, ১৪৩২

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ড্রোন প্রযুক্তির হাল-হকিকত ও সম্ভাবনা

এফ শাহজাহান
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ড্রোন প্রযুক্তির হাল-হকিকত ও সম্ভাবনা
বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ এশিয়া। সামরিকভাবে অপেক্ষাকৃত ছোট রাষ্ট্র হয়েও বিশাল সম্ভাবনাময় ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ এখন চতুর্মূখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাংলাদেশের নিকটতম কোন বন্ধু না থাকায় এবং শত্রুপ্রতিবেশির আগ্রাসী আচরণের কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষা, সীমান্তে প্রতিদিন ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশিদের হত্যার বদলা নেওয়া এবং আধুনিক যুদ্ধে টিকে থাকার প্রশ্নে বাংলােদেশকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে । এখনকার পরিস্থিতি বলছে, ভবিষ্যতে আমাদের আরো অনেক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এখনকার সময়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এই দাবিটা এখনই জোরদার করতে হবে এজন্য যে, এখন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো একটি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।এই সময়ের গণআকাঙ্খা এবং গণ-দাবিগুলোকে বিবেচনা করেই রাজনৈতিক দলগুলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি উন্নয়নমূখী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানের ইশতেহার তৈরি পারবেন।
ড্রোন এখন আর শুধু একটি অস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নয়। এখন ড্রোন হচ্ছে এমন এক প্রতিরক্ষা দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন, যা একটি দেশের জাতীয় শক্তির প্রতীক হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ এখনই সেই বিবর্তনের স্রোতে নিজেকে প্রস্তুত করতে না পারলে নানা দিক দিয়ে ক্ষতির সন্মুখীন হতে হবে।
ড্রোন প্রযুক্তি আজ শুধু নজরদারির জন্যই জরুরী নয়। ইলেকট্রনিক ওয়াফেয়ার, সার্ভেইলেন্স, টর্গেট একুইজেশন,স্ট্রাইক এবং সীমান্ত প্রতিরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ড্রোন বা আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল (ইউএভি) প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কীভাবে ড্রোন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে পারে ?
এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর বিদ্যমান পরিস্তিতি, বহুমূখী চ্যালেঞ্জ, সেইনব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়েই বিশ্লেষণ করা হয়েছে আজকের লেখায়।
প্রথমত : বাংলাদেশের আকাশ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ
প্রথমত : ভারতের Su-30MKI বা রাফালে, মিয়ানমারের JF-17 ও চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক যোগাযোগ। এগুলো বাংলাদেশের আকাশ নিরাপত্তাকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, চোরাচালান,এবং সীমান্ত উত্তেজনা মোকাবেলায় বাংলাদেশে ড্রোন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
দ্বিতীয়ত : বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষার বর্তমান চিত্র
বাংলাদেশ এখনো পুরাতন মৌলিক যুদ্ধবিমান নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনুসরণ করে। বাংলাদেশের রাডার কাভারেজ এখনো অসম্পূর্ণ। অনেক অঞ্চল কেবলমাত্র আংশিক পর্যবেক্ষণে থাকে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রোস্টারে রয়েছে MiG-29, F-7BG, Yak-130, K-8W প্রভৃতি বিমান। যদিও এগুলোর অনেকই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে।
বাংলাদেশে ড্রোন ব্যবহারের পরিসর এখনো অত্যন্ত সীমিত। বাংলাদেশে এখন যে ভাবে ড্রোন ব্যবহার করা হয়, তা শুধুমাত্র নজরদারি এবং সীমান্ত টহলে সীমাবদ্ধ ।
তৃতীয়ত : বাংলাদেশের আকাশ নিরাপত্তার সম্ভাবনা
বাংলাদেশে ড্রোন প্রযুক্তির সামরিক ও প্রতিরক্ষা সম্ভাবনা অনেক বেশি। সীমান্ত পর্যবেক্ষণের জন্য MALE (Medium Altitude Long Endurance) ড্রোনের ব্যবহার কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারবে।
নজরদারির জন্য তুরস্কের তৈরি Bayraktar TB2, Wing Loong HALE (High Altitude Long Endurance) গভীর নজরদারির জন্য MQ-9 Reaper Tactical UAV এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া, জ্যামিং সহনশীল Heron, ScanEagle Loitering Munition (কামিকাজে ড্রোন) ব্যবহার করা যেতে পারে।
টার্গেট হামলার জন্য Shahed-136, Switchblade. Micro/Nano Drones এবং শহুরে পর্যবেক্ষণের জন্য Black Hornet ড্রোন বাংলাদেশের কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা গড়তে সক্ষম হতে পারে।
চতুর্থত : ড্রোন প্রযুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার কৌশল
আইসআর (Intelligence, Surveillance & Reconnaissance) সক্ষমতা ও শক্তিমত্তা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব রাডার ব্যবস্থা রয়েছে, তা অনেকাংশে ম্যানুয়াল ও স্থির।
ড্রোন ব্যবহারে এ দুর্বলতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার জন্য উঁচু এলাকা, দ্বীপ বা সীমান্তে যেমন: পার্বত্য চট্টগ্রাম বা সেন্ট মার্টিনে নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করে Blind Spot কমানো যায়।
আকাশ হামলার আগাম সতর্কতা ও প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা অর্জনে আকাশ প্রতিরক্ষায় “Early Warning” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে বেয়রেক্টার টিবিটু বা Heron-এর মতো MALE ড্রোন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে থেকে নজরদারি চালাতে পারে। জলসীমা ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলে হঠাৎ অনুপ্রবেশ বা অবৈধ অনুপ্রবেশ শনাক্ত করা সহজ হয়।
ইউএভি প্রযুক্তি দিয়ে যে শত্রু ড্রোন, হেলিকপ্টার বা যুদ্ধবিমান প্রবেশ করলে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ট্যাক্টক্যিাল ড্রোন দিয়ে কমব্যাট এয়ার প্যাট্রোল পরিচালনা করা সম্ভব। ইউএভি স্যাটেলাইট সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবিরাম নজরদারি ব্যবস্থাও গড়ে তোলা যেতে পারে।
ইসরায়েল ও ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে Loitering Munitions অত্যন্ত কার্যকর। বাংলাদেশ চাইলে সীমান্ত সংঘর্ষে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য এমন ড্রোন মোতায়েন করতে পারে। নির্দিষ্ট অবস্থানে বসিয়ে রাখা এই ড্রোন প্রয়োজনে শত্রু অবস্থানে হামলা চালাতে পারে।
পঞ্চমত : ইউএভি এবং ম্যানড ফাইটার ইন্টিগ্রেশনের সম্ভাবনা
ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে Human-Machine Teaming ভিত্তিক। বাংলাদেশ এ প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারলে প্রতিটি বিমান স্কোয়াড্রনের সঙ্গে একটি করে Drone Wing সংযুক্ত করে Mission Efficiency বাড়ানো যাবে।
ট্রেইনিং ফ্লাইটে ইউএভি ব্যাবহার করে ‘লাইভ সিমুলেটেড অ্যাটাক’ এর ব্যবস্থা করা যাবে। কমব্যাট ট্রেইনিংয়ে ড্রোনের সহায়তায় পাইলটদের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও বাস্তব অভিজ্ঞতাও দেওয়া যাবে।
ষষ্টত : বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ভারত ইতোমধ্যেই রুস্তম এবং তাপস নামে নিজস্ব ড্রোন তৈরি করছে। মিয়ানমার চীন থেকে Wing Loong I/II ড্রোন নিচ্ছে এবং ইরান থেকেও সহযোগিতা নিচ্ছে।
চীন ও ভারতের মধ্যে ড্রোন প্রতিযোগিতার ফলে বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর এবং স্বনির্ভর ইউএভি তৈরি করতে হবে। যাতে করে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষম থাকে।
সপ্তমত : দুর্বল পাইলট-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন
বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে প্রশিক্ষিত পাইলটের সংখ্যা সীমিত, যা Full-Scale Deployment-এ সমস্যা তৈরি করে। এই ঘাটতি ই্উএভি দ্বারা আংশিকভাবে পূরণ করা সম্ভব।
অষ্টমত : দ্বীপ ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ
বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ ও বঙ্গোপসাগরের ওপর নজরদারিতে ইউএভি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মেরিটাইম ড্রোন সাভেইলেন্স বা সামূদ্রিক ড্রোন নজরদারি দিয়ে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন রক্ষা করা সম্ভব। বঙ্গোপসাগরে চীনা বা ভারতীয় সামুদ্রিক ড্রোন, সাবমেরিন কিংবা মাছ ধরার জাহাজ পর্যবেক্ষণ সহজ হয়।
নবমত : কৌশলগত উন্নয়নের রূপরেখা: ইউএভি ইন্ট্রিগ্রেশন পরিকল্পনা
বিমান বাহিনীর ড্রোন স্কোয়াড্রন গঠন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক এয়ার বেসে কমপক্ষে একটি ইউএভি স্কোয়াড্রন গঠন। ম্যাল, ট্যাক্টিক্যাল ও লোইটারিং ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করে হাইব্রিড স্ট্রাকচার গড়ে তোলাও জরুরী। সেই সঙ্গে দক্ষ ইউএভি পাইলট এবং ডেটা অ্যানালিস্ট নিয়োগ করাও জরুরী।
দশম : ড্রোন অপারেশন ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন
বাংলাদেশের আকাশকে সুরক্ষা দিতে হলে ইউএভি ও এআই নিয়ন্ত্রিত অপারেশনের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। বিদেশে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশের বুয়েট,রুয়েট,এমআইএসটি ও বিমান বাহিনী একত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠন করা যেতে পারে।
একাদশতম : লোকাল প্রযুক্তির উন্নয়ন
জাতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানির বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বা বিএমটিএফের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নজরদারি ড্রোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনী যৌথভাবে ড্রোন এআই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে পারে
দ্বাদশতম : আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও রপ্তানিযোগ্য কৌশল
তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া-র সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি করা যেতে পারে। ওআইসি বা বিমসটেক প্ল্যাটফর্মে মিলিটারি টেক সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের জন্য নজরদারি ড্রোন তৈরি করে তা রপ্তানির মাধ্যমেও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি যেতে পারে।
বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে সামরিক প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে ড্রোন প্রযুক্তি এমন এক ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’, যা সীমিত বাজেটেও আকাশ প্রতিরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী যদি এখনই পরিকল্পিতভাবে নজরদারি, হামলা ও প্রশিক্ষণ-এই তিনটি ক্ষেত্রেই ‘ইউএভি’ সংহত করে, তাহলে এ দেশ ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে বড় কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারবে।
DRONE.jpg

কানাডার টরেন্টোতে ৪ থেকে ৭সেপ্টেম্বর ৪দিন ব্যাপী

বাংলাদেশ থেকে শুভারম্ভন হলো ‘ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তি উৎসব আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ থেকে শুভারম্ভন হলো ‘ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তি উৎসব আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আমেরিকা এবং উত্তর আমেরিকার বাঙ্গালীদের প্রথম এবং জনপ্রিয় সংগঠন ফোবানা ফাউন্ডেশন, সংগঠনটির জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের স্বনামধন্য সব শিল্পী বৃন্দদের নিয়ে প্রতিবছরই জমকালো সব আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে কানাডার টরেন্টোতে ২০২৬ এর ৪ই সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই সেপ্টেম্বর ৪দিন ব্যাপী বাংলাদেশী শিল্পী, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের নিয়ে সম্মাননা প্রদান সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানটি উদযাপনের প্রাথমিক আলোচনার জন্য ফোবানা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি – এর সভাপতি আবু জুবায়ের দারা এবং এটিএন এমসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুর রহমান মুনিম ঢাকায় বনানীর ফিশমার্ট রেস্টুরেন্টে শিল্পী কলাকৌশলী এবং উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করেন।

এই আলোচনায সভায় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব, এটিএন বাংলার ট্রান্সমিশন উপদেষ্টা তাসিক আহমেদ, বাংলাদেশের সোসাইটি এসসি- এর সহ-সভাপতি আহমেদুর রহমান,এটিএন এডুকেশন এর নির্বাহী পরিচালক রোকসানা আখতার রিনি, সঙ্গীত শিল্পী আখি আলমগীর, ইমরান, সালমা, এস আই সুমন, তামান্না হক, লগ্না, ডলি,চলচ্চিত্র অভিনেতা সুমন মাহমুদ, চলচ্চিত্র শিশু শিল্পী টুনটুনি, নৃত্যশিল্পী সোহেল, মডেল এবং উপস্থাপিকা সালসাবিল, কোরিওগ্রাফার লুনা, মডেল পিউ, চলচ্চিত্র প্রযোজক মাহবুবা শাহরীন, আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা সম্পর্কিত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন অতিথি গ্রুপের পরিচালক নুরুন্নবী চৌধুরী, উদ্যোক্ত ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জাহাঙ্গীর আলম, নারী উদ্যোক্তা নাজমুন নাহার চৌধুরী, তানজিনা মিতু এবং ইসরাত ফারিবা।

ফোবানা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি – এর সভাপতি আবু জুবায়ের দারা বলেন- ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবারের আয়োজন অতীতের সমগ্র আয়োজন হতে অন্যরকম এবং জাঁকজমক পূর্ণ হবে। যেখানে তিনি শিল্পী কলাকৌশলী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম এবং পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

এটিএন এমসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুর রহমান মুনিম বলেন – এবারের আয়োজন খুব চ্যালেঞ্জিং, অতীতের মতো এবারও সকল চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে একটি সফল অনুষ্ঠান উপহার দিতে পারবো ইনশাল্লাহ।

চলচ্চিত্র সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব বলেন – প্রবাসী বাঙ্গালীদের এই বৃহৎ মিলনমেলায় উপস্থিত থাকবো এটি অনেক আনন্দের। ৪০ তম ফোবানো উৎসবের ইভেন্ট পার্টনার এটিএন এমসিএল এবং মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা।

শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থারত শিক্ষকদের ওপর অ্যাকশনে গেছে পুলিশ। রোববার সকাল থেকে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থানের এক পর্যায়ে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তাদেরকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। শিক্ষকদেরকে ধাওয়া দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিয়ে যায়।

এসময় জাতীয় প্রেসক্লাব ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষকদের মাঝে। তারা বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে পড়েন। প্রায় তিন ঘন্টা পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, দেড় হাজার টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে নেমেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।

সকাল ১০ টার পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান শুরু করেন শিক্ষকরা। সারা দেশ থেকে আসা ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষকের অবস্থানের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব, সচিবালয় ও মেট্রোরেলের প্রবেশ পথে সাধারণ মানুষের চলাচলও চরমভাবে বিঘ্ন হয়।

প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জোটের মহাসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানিয়েছেন। দাবি আদায়ে অবস্থান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের শিক্ষক সমাবেশে লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিল। ওইদিন শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসিকের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস পার হলেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হন।

সূত্রমতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে নতুন করে বাড়িভাড়া ভাতা ও মেডিক্যাল ভাতার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাবনা গত ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ নির্ধারণে নতুন প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ এবং চিকিৎসা ভাতা এক হাজার টাকার প্রস্তাব করেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

শোবিজ

এবার কোরিয়ান জনপ্রিয় ডল ‘লা বু বু’ এর মডেল হলেন “এডলফ খান”

জুবায়ের সাকিব | স্টাফ রিপোর্টার (বিনোদন ডেস্ক)
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
এবার কোরিয়ান জনপ্রিয় ডল ‘লা বু বু’ এর মডেল হলেন “এডলফ খান”

বাংলাদেশের জনপ্রিয় তারকা এডলফ খান আবারো বিশ্ব অঙ্গনে তার ভক্তদের চমকে দিলেন এক অনন্য অর্জনের মাধ্যমে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত কোরিয়ান পুতুল ‘লা বু বু ডল (LA BU BU)’-এর মডেল হিসেবে এবার তাকে দেখা যাবে; যা কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

কোরিয়া, ইউরোপ, এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘লা বু বু ডল’ এখন টিনএজার এবং কেপপ (KPOP) অনুরাগীদের কাছে এক অদ্ভুত ক্রেজ। বিশেষ করে BTS (방탄소년단) ভক্তদের কাছে এটি এখন এক ফ্যাশন আইকন ও কালেক্টরস ড্রিম। এতদিন পর্যন্ত এই প্রজেক্টে বলিউড ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তারকারা যুক্ত ছিলেন, আর এবার সেই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের এডলফ খান।

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘Ghorar dim-toy BD’-এর আয়োজনে এই আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। পুরো শুটিং টিমে ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের পেশাদার ফটোগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট, ও কনসেপ্ট ডিজাইনাররা। এডলফ খানের প্রতিটি লুকে তাকে সম্পূর্ণ কোরিয়ান চরিত্রে রূপান্তরিত করা হয়, যা তাকে আরো অনন্য করে তুলেছে।

এডলফ খান জানান,

“এই প্রজেক্টে কাজ করা আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। পুরো টিমের পেশাদারিত্ব এবং যত্ন আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আমার ভক্তরা ‘লা বু বু ডল’-এর এই নতুন কোরিয়ান-অনুপ্রাণিত চরিত্রটিকে ভালোবাসবেন।”

তার কোরিয়ান লুক এবং এক্সপ্রেশনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, “এডলফ খান হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রথম কোরিয়ান-লুক মডেল যিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ফিগার রূপে আত্মপ্রকাশ করছেন।”

আগামীকাল সন্ধ্যায় প্রকাশ পাচ্ছে ‘লা বু বু ডল’-এর ফার্স্ট লুক, যা ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা ও আগ্রহ।

এই প্রজেক্টের মাধ্যমে এডলফ খান শুধু নিজের জনপ্রিয়তাকেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাননি, বরং প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের শিল্পীরাও আজ গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং, মডেলিং ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

বাংলাদেশ থেকে শুভারম্ভন হলো 'ফোবানার ৪০ তম বর্ষপূর্তি উৎসব আয়োজন শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবার কোরিয়ান জনপ্রিয় ডল ‘লা বু বু’ এর মডেল হলেন "এডলফ খান" রাসূল (সা.)-এর আদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নারায়ণগঞ্জ ‎জেলা প্রশাসকের স্কুল পরিদর্শন: শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ সোনারগাঁয়ে ওস্তাদের শরীর মাসাজ না করায় রক্তাক্ত  মাদরাসা ছাত্র, থানায় অভিযোগ শেরপুর সরকারি কলেজে নবীনবরণ ও উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪২ জন নির্বাচিত সিরাজগঞ্জে পিতাকে হত্যার ঘটনায় পুত্রের মৃত্যুদণ্ড বেনাপোলে ২৭ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ