সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ায় বাগাতিপাড়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
বাগাতিপাড়া উপজেলার একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান হাফিজকে এক শিক্ষা-সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনায় উপজেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সোমবার উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারী ইন্সটিটিউশন স্কিম এর আওতায় জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২২ ও ২০২৩ সালের এসএসসি ও এইচএসসির ৩৯ জনকে কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে হাফিজুর রহমানকে অতিথি হিসেবে দাওয়াত জানানো হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে তাকে মঞ্চে আসন দেওয়া হলে, একজন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাকে মঞ্চ থেকে উঠে নিচে বসতে বলা হয়।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বাগাতিপাড়া উপজেলার সাধারণ মানুষ, শিক্ষানুরাগী মহল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা মনে করেন, একটানা ছয়বার ২ নম্বর জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং পরে উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে হাফিজুর রহমানের অবদান স্মরণীয়। সেইসাথে তিনি বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সম্মানিত সদস্য।

বাগাতিপাড়া উপজেলা বাসীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়,
“হাফিজুর রহমান হাফিজ এর প্রতি এই আচরণ চরম অসৌজন্যমূলক ও অমার্জনীয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ। তিনি বলেন “একজন সম্মানী মানুষকে এভাবে অসম্মান করাটা কোনভাবে ঠিক হয়নি। আমি অনুষ্ঠানে তৎক্ষণাৎ এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। ”
এ ঘটনায় বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ন আহবায়ক হায়দার-রশীদ-সোনা বলেন, বাগাতিপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে, অন্যথায় আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।
জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা হাফিজুর রহমানকে কেন এমন অসম্মান করা হলো এমন প্রশ্নে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অঃ দাঃ) মোঃ ওয়াজেদ আলী মৃধা দাবি করেন, “আমাদের অফিস স্টাফ ভুল বুঝার কারনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা এ ঘটনায় অত্যন্ত লজ্জিত-মর্মাহত। ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। ” এছাড়াও আগামীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি ।








আপনার মতামত লিখুন